৫০% ছাড়

খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা

৳  300.00 ৳  150.00

মূল লেখক ǀ রাশীদ হাইলামায‎
ইংরেজি অনুবাদ ǀ হুলইয়া চোশার ‎
বাংলা অনুবাদ ǀ মুহাম্মাদ আদম আলী
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০১৫‎, ডিসেম্বর ২০১৭, অক্টোবর ২০১৯
দ্বিতীয় সংস্করণ ও তৃতীয় প্রকাশ: অক্টোবর ২০১৯
ISBN : 978-984-91176-0-5
মূল্য : ৳ ১২০.০০ ৳ ২৪০ (পেপারব্যাক); ৳১৫০  ৳ ৩০০.০০ (হার্ডকভার)‎

Compare

Description

ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নেই সময়োপযুগি মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে। খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের সূচনালগ্নে ‎ঐরকম একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি এক অবিস্মরণীয় জীবন কাটিয়েছেন। তার সেই জীবনের অবদান ও মহাত্ম্য সম্পর্কে ‎‎স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা এবং তার প্রিয় হাবীব রাসূল (সা.) বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। ইসলাম আবির্ভাবের সময়কাল ‎বিবেচনা করে এখানে এমন একজনের ব্যতিক্রমধর্মী জীবনালেখ্য বর্ণনা করা হয়েছে যিনি ছিলেন ইসলামের সর্বযুগের চার ‎‎শ্রেষ্ঠ মহিলাদের মধ্যে একজন। রাসূল (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর বাণীর প্রতি তিনি সর্বান্তকরণে ঈমান ‎এনেছিলেন। খাদিজা (রা.) ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান হিসেবেই শুধু বিখ্যাত নন, বরং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ‎শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও একইরকম প্রসিদ্ধ। আর তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম মুসলিম জনগোষ্ঠির জন্য এক ‎বিরাট অনুপ্রেরণা ও সাহায্যের ভা-ার। এখানে রাসূল (সা.)-এর কথা ও কাজের প্রতি তার অতুলনীয় বিশ্বস্ততাকে ফুটিয়ে ‎‎তোলার পাশাপাশি তাকে বর্তমান সমাজের মুসলিম-অমুসলিম সকল নারী-পুরুষের জন্য একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ‎বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ‎‎

 

[khadija ra., kadiga ra.]

1 review for খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা

  1. admin

    [রিভিউ লেখক : MarJaana IsRaat ‎ ]

    লেখক পরিচিতি: ড. রাশীদ হাইলামায তুরস্কের একজন ইসলামী গবেষক ও সীরাত লেখক। তার লেখা বই বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উলামায়ে কেরামসহ সব শ্রেণির পাঠকের কাছে তার বই ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।
    ‘খাদিজা রা. : প্রথম মুসলমান এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর বিবি’ বইটিতে
    লেখকের বিশেষ প্রজ্ঞা, শৈল্পিক অভিব্যক্তি, ইসলামের প্রতি তার গভীর ভালবাসা সর্বোপরি তার অসম্ভব সুন্দর তর্জমা দেখে অবাক না হয়ে পারা যায় না।
    ড. রাশীদ হাইলামাযের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিকোণ, সত্য উৎঘাটনে পৌণঃপুনিক গবেষণা এবং তার সহজ সরল প্রকাশভঙ্গি সারা বিশ্বের ইসলামী প্রকাশনায় বিরল।

    বইয়ের বিষয়বস্তু : ইসলামের ইতিহাসে খাদিজা রা. একজন প্রাণবন্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি বিস্ময়কর এক জীবন অতিবাহিত করেছেন যা সকল পুরুষ ও মহিলাদের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের জন্য এক পরম আদর্শ।
    বইটিতে খাদিজা রা. এর বংশ পরিক্রমা, বিয়ে, সন্তান-সন্ততি, প্রথম ওয়াহি, ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ সহ তাঁর মৃত্যু এবং রাসূল সা. এর একাকিত্বের সময় গুলো সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

    খাদিজা(রাঃ) পুরো নাম হচ্ছে খাদিজা বিনতে খাওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দেল ওজ্জা ইবনে কুসাই। তাঁর বংশ তালিকা কুসাই পর্যন্ত গিয়ে মুহাম্মাদ(সাঃ) এর বংশের তালিকার সাথে মিলেছে।
    তিনি তাঁর মায়ের দিক দিয়েও সম্পর্কিত ছিলেন।

    ব্যবসা-বাণিজ্যে ও অর্থনীতিতে চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার যুগের সবচেয়ে ধণাট্য ব্যক্তি ও দৃষ্টান্তহীন করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ইসলামের পথে তার সমস্ত ধন-সম্পদকে ব্যয় করেছেন।
    ইসলামের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য খাদিজা রা. এর সম্পদ ছিল অত্যন্ত জরুরী ও আবশ্যক।
    তার ধন-সম্পদ এতটাই উপকারে এসেছিল যে রাসূল (সা.) সে সম্পর্কে বলেছেন:
    খাদিজার (রা.) সম্পদের মত অন্য কোন সম্পদই আমাকে এতটা লাভবান করেনি।

    সে সময় মুহাম্মদ(সাঃ) এর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৫ বছর।
    যে সমাজে যৌনতা ছিল সহজ ও স্বাভাবিক বিষয়, যেখানে যৌনতাকে পূজা করার রেওয়াজ ছিল, সেই সমাজে মুহাম্মদ(সাঃ) ছিলেন সুদর্শন যুবক, গড় উচ্চতার সুগঠিত শরীর ছিল তাঁর, মাথার চুল আর দাড়ি ছিল ঘন কালো এবং কোঁকড়ানো, চেহারায় ছিল উজ্জ্বল অভিব্যক্তি যা বিশেষ ভাবে সবার নজর কাড়ত। সুন্দর সুদর্শন এক যুবক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সেই জীবনের ২৫ বছর পর্যন্ত কখনও কোন নারীর সান্নিধ্যে কাটেনি।

    রাসূল সা. এর চারিত্রিক গুণাগুণ, সততা ও সত্যবাদীতার পরিচয় পেয়ে খাদিজা রা. পুনরায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন যদিও তিনি বিয়ে না করার ব্যাপারে দৃঢ় ছিলেন।
    প্রিয় বান্ধবী নাফিসা বিনতে মুনইয়া কে দিয়ে রাসূল সা. এর কাছে প্রস্তাব পাঠান।

    কুরাইশ বংশের একদল ত্রুটি অন্বেষকারী মূর্খ নারী খাদিজা রা. সম্পর্কে অভিযোগ ও উপহাস করতে লাগল। তারা উপহাস করে বলতো:
    “খাদিজার মত একজন প্রসিদ্ধ ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী বিত্তশালী নারীর এটা মানায় না যে একজন ইয়াতীম,
    রিক্তহস্ত, দরিদ্র ব্যক্তিকে বিয়ে করবে আর এটা কি নেক্কারজনক একটা বিষয় নয়?”

    যখন এই কথাটি খাদিজা রা. এর কানে পৌঁছালো তিনি তার কর্মচারীদেরকে সুস্বাদু খাবার তৈরীর নির্দেশ দিলেন। আর ঐ সকল নারীদেরকে দাওয়াত করলেন। যখন সবাই আহারে ব্যস্ত তখন হযরত খাদিজা (সা.) তাদের উদ্দেশ্যে বললেন,
    “হে নারী সমাজ! তোমরা নাকি মুহাম্মাদ (সা.) কে বিয়ে করার বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে উপহাস করছো? আমি তোমাদের কাছে জানতে চাই:
    “মুহাম্মাদ (সা.) এর মত ঐ ধরনের ভাল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি কি তোমাদের নজরে আছে?
    মক্কা ও মদীনার আশে পাশে এমন ব্যক্তিত্ববান কেউ কি আছে যিনি মুহাম্মাদ (সা.) এর মত চরিত্র ও মর্যাদার দিক থেকে এত সৌন্দর্য্যপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতার অধিকারী? আমি তার এই পূর্ণতার কারণেই তাকে বিবাহ করেছি,
    আর এমন কিছু তার সম্পর্কে শুনেছি ও দেখেছি যা অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং এটা উচিত নয় যে তোমরা যা খুশি তাই বলবে ও অজ্ঞতাবশে কাউকে অশোভনীয় অপবাদ দিবে।”

    খাদিজা রা. এর কাছ থেকে এধরনের হৃদয়গ্রাহী কথা শুনে সমস্ত নারীরা নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাদের এই নিস্তব্ধতা তারই সাক্ষ্য বহন করে যে, এ সম্পর্কে তাদের আর বলার মত কোন ভাষা নেই।

    খাদিজা রা. এর গর্ভের চার কন্যা: জায়নাব রাঃ, রোকাইয়া রাঃ, উম কুলসুমরাঃ, ফাতিমা রাঃ, এবং দুই পুত্র: আল কাসেম, আব্দুল্লাহ বা আল তাহের ছিল।
    আরও জানা যায় তাদের পালক পুত্র ছিলেন আলি ইবনে আবি তালিব(রাঃ), যায়েদ ইবনে হারিস(রাঃ), আল যুবায়ের ইবনে আওয়াম(রাঃ), এবং হিন্দ(রাঃ) নামক খাদিজা(রাঃ)এর আগের পক্ষের পুত্রও ছিলেন।
    সুতরাং সহজেই অনুমেয় কত বড় পরিবারের তত্ত্বাবধান করতে খাদিজা(রাঃ) ব্যস্ত ছিলেন!

    খাদিজা(রাঃ) এর বয়স যখন ৫০ বছরের উপরে তখন থেকেই মুহাম্মাদ(সাঃ) নির্জনে ধ্যান-সাধনার মগ্ন এবং সংসারের প্রতি উদাস হয়ে পড়েন। সাধনার উদ্দেশ্যে কয়েক সপ্তাহের জন্য কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে জাবালে নুর পাহাড়ের হেরা নামক এক গুহায় নির্জন বাস শুরু করেন। সেই সময় খাদিজা (রাঃ) তাঁর স্বামীর ধ্যান-তপস্যায় যেন কোনরূপ বিঘ্ন না হয় সেদিকে সব সময় নজর রাখতেন। সেই বয়সে স্বামীর জন্য খাদ্য পানীয় এবং আনুষঙ্গিক ব্যবহার্য অন্যান্য উপকরণ নিজে বহন করে সেই উঁচু পাহাড়ের গুহায় নিয়ে যেতেন।

    মুহাম্মাদ(সাঃ) সবে মাত্র ৪০ বছর বয়সে পা দিয়েছেন, তখন খাদিজা(রাঃ) এর বয়স ৫৫ বছর।
    একদিন তিনি হেরা গুহায় গভীর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন।
    নবী সা. এর বর্ণনায়, ‘সে রাতে আমি ছিলাম গুহায়। আমি দেখতে পেলাম জিবরাঈল(আঃ) আমার পাশে দাঁড়ানো, এবং আমাকে আলিঙ্গন করে চাপ দিয়ে বললেন, পড়! আমি জানালাম, আমি তো পড়তে জানিনা। তখন তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে আবার আলিঙ্গনের দ্বারা চাপ দিলেন এবং সেই চাপের কারণে আমি অনুভব করলাম যেন আমি মারা যাচ্ছি। তিনি আবার বললেন, পড়! আমি বললাম, আমি তো পড়তে জানিনা। তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে এবার আরও অধিক জোরে আমাকে চাপ দিয়ে বললেন, পড়! তখন আমি জানতে চাই কি আমি পড়ব? তিনি বললেন, পড় তোমার সৃষ্টিকর্তার নামে– ﻗْﺮَﺃْ ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺭَﺑَِّ
    ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ পড়ো! (হে নবী), তোমার রব এবং পালন কর্তার নামে ৷ যিনি সৃষ্টি করেছেন৷’ (কুরআন: ৯৬:০১)

    যখন জিবরাইল(আঃ) অদৃশ্য হয়ে গেলেন, মুহাম্মাদ (সাঃ) এত ভয় পেয়ে যান যে সারা শরীরে কম্পন শুরু হয়।
    তিনি দ্রুততার সাথে মক্কায় ফিরে আসেন। এই অবস্থায় তিনি ছুটে আসেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা(রাঃ) এর কাছে।
    থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে নিজ ঘরে প্রবেশ করেই খাদিজা(রাঃ) কোলে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কম্বল দিয়ে নিজের গা জড়িয়ে দেয়ার জন্য বলেন। বারবার বলতে থাকেন, ‘আমাকে আবৃত কর!’ ‘আমাকে আবৃত কর!’

    খাদিজা(রাঃ) স্বামীর এই অবস্থা দেখে তাঁকে গভীর ভাবে জড়িয়ে রাখলেন। কম্পিত দেহের শঙ্কা কমানোর চেষ্টা করলেন, অভয় দিলেন, আশংকা দূর করার চেষ্টা করলেন।
    জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি হয়েছে বলুন তো?
    তিনি জবাব দিলেন, আমি আমার ব্যাপারে ভয়ঙ্কর কিছুর আশংকা করছি।
    সাথে সাথে এই সম্ভাবনার কথা খাদিজা(রাঃ) নাকচ করে দিয়ে বলেন, আপনি একদম ভয় পাবেন না, আল্লাহ আপনার কোন অমঙ্গল করবেন না।

    কি আশ্চর্য দৃঢ়তা তিনি দেখিয়েছেন! এতে কোন সন্দেহ নেই যে তিনি আল্লাহর উপর প্রগাঢ় বিশ্বাসী ছিলেন। এই ঘটনা তার সেই বিশ্বাসের অবিশ্বাস্য নিদর্শন। পৃথিবীর কোন মানুষ এমন পরিস্থিতিতে এত শক্তি এবং দৃঢ় মনোবলের সাথে কথা বলতে পারবে না।

    খাদিজা(রাঃ) তার স্বামীকে অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন দিয়েছেন। সংকট কালে খাদিজা(রাঃ) উপর মুহাম্মাদ(সাঃ) এর গভীর নির্ভরশীলতা ছিল।
    খাদিজা(রাঃ) সর্বপ্রথম নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁকে নবী হিসাবে প্রথম অনুসরণ করেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামী রীতি রেওয়াজ চর্চা শুরু করেন

    ৬১৯ খ্রিঃ ১০ই রমজান যখন মুহাম্মাদ(সাঃ) এর অতি প্রিয়তম স্ত্রী মারা যাচ্ছেন তখন জিবরাইল(আঃ) তাঁর নিকট আসেন এবং বলেন- হে মুহাম্মাদ(সাঃ) আপনি খাদিজা(রাঃ)কে আল্লাহর তরফ সালাম পৌঁছান। তাঁকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাঁর জন্য বেহেস্তে মুক্তা দিয়ে দুর্গ বানিয়ে রেখেছেন, যেখানে কোন ধরণের গোলমাল এবং যন্ত্রণা থাকবেনা।

    মুহাম্মাদ(সাঃ) খাদিজা(রাঃ) এর ওফাতের কারণে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। সেই একই সময়ে তাঁর চাচা আবু তালিবও মারা যান। সাহেবায়ে কেরামগণ সেই বছরকে দুঃখের বছর বলে উল্লেখ করেন।
    অন্য যে কারো চেয়ে খাদিজা(রাঃ) এর জন্য তাঁর ভালবাসা তাঁর হৃদয়ে আজীবন সতেজ ও উজ্জ্বল ছিল।

    অনেক বছর পর একদিন নবী (সাঃ) ও আয়েশা(রাঃ) বসা ছিলেন। তখন কেউ একজন দরজায় করাঘাত করে ভিতরে আসার অনুমতি প্রার্থনা করে। তখন মুহাম্মাদ(সাঃ) খুব দ্রুত উঠে দাঁড়ান এবং আনন্দে বলে উঠেন, ‘নিশ্চয়ই এটা হালা বিনতে খুওয়াইলিদ।’
    হালা ছিলেন খাদিজা (রাঃ) এর বোন।
    আর হালা (রাঃ) এর কণ্ঠস্বর ছিল বিবি খাদিজা(রাঃ) এর কণ্ঠের মত।
    যখন তিনি পশু কুরবানি দিতেন তখন তাঁর গোস্ত উপহার স্বরূপ খাদিজা(রাঃ) পরিচিত মহলে পাঠিয়ে দিতেন।

    এই কারণে আয়েশা(রাঃ) খাদিজা(রাঃ)কে ঈর্ষা করতেন। একদিন সেটি প্রকাশ করে ফেলেন।
    বললেন- কেন ঐ মহিলাকে এত বেশী স্মরণ করতে হবে যে কিনা কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তার পরিবর্তে উত্তম নারী আপনাকে দান করেছেন।
    আল্লাহর রাসূল সা. আয়েশা রা. এর এমন মন্তব্যে মোটেও খুশি হননি বরং বলেছেন, তার মত আর কে হতে পারবে! আল্লাহ তার চেয়ে উত্তম নারী আমাকে দান করেননি, মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছে সে তখন আমার প্রতি ঈমান এনেছে। মানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে সে তখন আমাকে সত্য বলেছে। মানুষ যখন আমাকে বঞ্চিত করেছে, সে তখন আমাকে তার সম্পদে অংশীদার করেছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে সন্তান দিয়েছেন।

    আরেক সময়ের একটি ঘটনা। মুসলিমগণ মুহাম্মাদ(সাঃ) এর মেয়ের স্বামীকে বন্দী করে। তার নাম আল-আস ইবনে আল- রাবী। তিনি মুসলিম ছিলেন না এবং মুসলিমদের বিপক্ষে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। আল-আস ধরা পড়ার পর তার স্ত্রী জায়নাব (রাঃ) (মুহাম্মদ সা. এর বড় মেয়ে) তাকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরিয়ে নিতে চান। তিনি তাঁর মা খাদিজা(রাঃ)এঁর দেওয়া উপহার গলার হার বাহকের মারফত মুক্তিপণ হিসাবে পাঠান। মুহাম্মাদ (সাঃ) যখন সেই হারটি দেখতে পান তখন খাদিজা(রাঃ) এর কথা মনে পড়ে ব্যকুল হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিতাড়িত হয়ে আবেগে ভারাক্রান্ত হয়ে গেলেন।
    তিনি তাঁর সাহাবীদেরকে বলেন- তোমরা যদি তার স্বামীকে এবং তার হারকে ফেরত দেওয়া ভাল বিবেচনা কর, তাহলে তা করতে পার।
    সাহাবীগণ মুহাম্মাদ(সাঃ) এর মর্ম বেদনা বুঝতে পেরে তাঁর প্রস্তাবকে মেনে নেন। তিনি জায়নাব(রাঃ) প্রেরিত হারটি বাহকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন- এইটি জায়নাবকে ফিরিয়ে দিয়ে বলবে, সে যেন এই হারটি নিরাপদে রাখেন।

    খাদিজা রা. এর অনুপস্থিতি রাসূল সা. খুব ভালভাবেই টের পেলেন। সারাক্ষণ খাদিজার স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠত।
    একদিন এক সাহাবী দেখা করতে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! খাদিজা রা. এর অনুপস্থিতির কষ্টে আপনি যেন একেবারে নুয়ে পড়েছেন?
    তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। সে আমার সন্তানদের মা ছিল এবং আমার গৃহকর্ত্রী ছিল।

    রিভিউ:- বইটিতে এমন এক নারী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যিনি ইসলামের নারীদের মধ্যে একজন মহিয়সী নারী, সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ নারীদের একজন, প্রথম মুসলিম নারী, নবী করিম (সা.) এর হৃদয়ের রাণী,প্রাণপ্রিয় স্ত্রী।
    তিনি ছিলেন সবদিক থেকে উচ্চপদস্থ, দয়াময়ী, খোদাভীরু , দানশীলা এবং বেহেস্তের ফুল ফাতেমা যাহরা রা. এর প্রিয় মাতা।
    তাঁর জীবনী ছিল উজ্জ্বলতম ও ব্যক্তিত্ব ছিল নারীদের জন্য আদর্শস্বরূপ।
    তিনিই শেষ নবীর স্ত্রীদের মধ্যে প্রথম স্বস্তিদাতা ও সাহায্যকারিণী।

    সে যুগে মক্কাবাসী পয়গাম্বরদের আদর্শ হতে দূরে থাকার ফলে মূর্খতা এবং সে যুগের নোংরা, অশ্লীল কার্যক্রমের ফলে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল যে সেখানে আদর্শের কোন চিহ্ন মাত্রই ছিল না। শুধু বৈষম্য, অত্যাচার, নোংরামি, মতভেদ, যুদ্ধ, রক্তপাত, হিংসা,
    স্বার্থপরতা, ছন্নছাড়া, এবং লাগামহীন জীবন ছিল। এই যুগকে বলা হয় আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ’।
    এমন এক অন্ধকার যুগে আদর্শ এক দম্পতি (খুয়াইলিদ ও ফাতিমা) হতে এক উজ্জল নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটে। এই উজ্জল নক্ষত্রটি হচ্ছে হযরত খাদিজা রা.।

    অন্ধকার যুগে সচ্চরিত্র নারী খুব কম ছিল। অনেক নারীই সে যুগে অসৎ কর্মে লিপ্ত ছিল কিন্তু খাদিজা রা. সে যুগেও তার সর্বদিক থেকে পবিত্রতার জন্য “তাহেরাহ” অর্থাৎ পবিত্রা উপাধি অর্জন করেছিলেন।

    তার ব্যক্তিত্ব সে যুগেও এত বেশী উচ্চ পর্যায়ে ও সম্মানের পাত্র ছিল যে,
    তাকে সবাই “সায়্যেদাতুন নেসাওয়ান” বা নারীদের সর্দারণী বলে ডাকতেন।

    অন্ধকার যুগের নারীদের মধ্যে খাদিজার রা. এর অবস্থান ছিল সম্মানিত। পূর্ণতা ও উচ্চ মর্যাদার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনুপম। সে কারণেই বিবাহের পর রাসূল (সা.) তাকে “কুবরা” বা পরিপূর্ণ ও উচ্চাসন উপাধি দিয়েছিলেন।

    দোয়া নুতবাতে হযরত খাদিজা রা. কে বলা হয়েছে ‘খাদিজাতুল গাররা’ অর্থাৎ সম্ভ্রান্ত খাদিজা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    এই মহিয়সী নারী ৪০ বছর বয়সে রাসূল (সা.) যাঁর বয়স তখন ২৫ বছর ছিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনিই প্রথম নারী ছিলেন যিনি ইসলামের উদয়ান্তে সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ২৫ বছর যাবৎ রাসূলের (সা.) সাথে যুগল জীবন যাপন করেন। এই দিনগুলিতে সর্বদা পরাক্রান্ত ও আত্মত্যাগী সাথী,
    দয়াশীল বন্ধু হিসেবে রাসূলের (সা.) সাথে ছিলেন।
    তার সম্পর্কে হযরত আবু তালিব সেই অন্ধকার যুগে বলেছিলেন, খাদিজা রা. এমনই এক নারী যে সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ, বরকত ও সৌন্দর্য্যে ভরপুর। যার থেকে সব ধরনের অবজ্ঞা ও অপবাদ অনেক দূরে। সে এমনই নারী যে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সম্মানিত।

    এযুগের অনেক স্ত্রীদের মত খাদিজা রা. কখনও স্বামীর প্রতি অভিযোগ করেননি,
    মক্কার অভিজাত পরিবারের একজন ধনাঢ্য নারী হয়েও তিনি নিঃস্ব দরিদ্রের হালত পছন্দ করে নিয়েছেন।
    তাঁর বিপুল সহায় সম্পত্তি ইয়াতিম, মিসকিনদের মাঝে বন্টন করে দেয়ার পরও স্বামীর প্রতি এতটুকু অসন্তুষ্ট হয়ে বলেননি, আমার সব সম্পত্তি দান করে দিয়ে আমাকে কেন গরীবের হালতে রেখেছেন?
    বরং তিনি যেমন স্বামীর সেবা যত্ন করতেন তেমনি স্বামীর প্রতিটি কাজে-কর্মে একবাক্যে সমর্থন এবং সহযোগিতা করে যেতেন।

    বইটি পড়ে আমার যা মনে হল, খাদিজা রা. দুনিয়া এবং আসমানবাসীর কাছে যে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন তা তাকে এমনি এমনি দেয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এই সম্মান,মর্যাদা তিনি অর্জন করে নিয়েছেন। সত্যিকার অর্থে সম্মানের এই চূড়ান্ত শিখরে কেউ এমনি এমনি পৌঁছাতে পারে না। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অনেক বাধা বিপত্তি পেরুতে হয়, অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
    আর মানুষ ত্যাগের মাধ্যমেই সুনাম অর্জন করে।

    মানুষ সাধারণত তাদেরকেই অনুসরণ করতে চায় যারা মডেল এবং তাদের মত করেই জীবন যাপন করতে চায়। এই মডেল যদি সত্যিকার অর্থেই আদর্শবান হয়, তাহলে যারা তাকে অনুসরণ করে তারাও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে।

    একজন নারী হিসেবে, একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন মা হিসেবে খাদিজা রা. ছিলেন সফল ও অতুলনীয়া। তিনি এমন এক চরিত্রের অধিকারিণী ছিলেন যা তাঁকে সর্বযুগে সর্বজনের জন্য মডেল করেছে।

    ‘খাদিজা (রা): প্রথম মুসলমান এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর বিবি’ বইটি এক কথায় অসাধারণ। যে এখনো বইটি পড়েনি আমি মনে করি সে নিজেকেই বঞ্চিত করেছে। তাই দেরি না করে আজই পড়ে নেয়া উচিৎ।

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *