৫০% ছাড়

মহীয়সী নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন

৳  900.00 ৳  450.00

মূল : শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী
অনুবাদ : কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
পৃষ্ঠা : ৫৩৬; ৮০ গ্রাম অফসেট, কালারড (Hard Binding)
প্রথম প্রকাশ : আগস্ট ২০১৮
ISBN : 978-984-92292-6-1

Compare

Description

আধুনিক জীবন-যাপন প্রযুক্তির কল্যাণে অনেক সহজসাধ্য ‎হলেও মানবিক চরিত্র উন্নয়নের ব্যাপারটি সে তুলনায় ‎আগে বাড়তে পারেনি। ইসলামী মূল্যবোধ ছাড়া এটি ‎অর্জনও সম্ভব নয়। বাস্তবিক অর্থে এখন যারা সমাজে ‎‘আইডল’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তারা পাশ্চাত্যেরই ‎সৃষ্টি—যা ইসলামী মূল্যবোধ ও বিশ্বাসকে ধ্বংসের ‎দ্বারপ্রান্তে উপনীত করেছে। মর্ডানিজমের যাতাকলে ‎মুসলিম সমাজও এ ধ্বংসযজ্ঞের ইন্ধন যোগাচ্ছে। এ থেকে ‎উত্তরণের একমাত্র উপায়—ইসলামের প্রথম যুগের ‎সাহাবায়ে কেরামকে ‘আইডল’ হিসেবে গ্রহণ করা। এটি ‎পুরুষ ও নারী—উভয়েরই জন্যই জরুরী। তবে নারীজাতির ‎বর্তমান দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করে আরববিশ্বের খ্যাতিমান ‎‎লেখক শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী সঙ্কলন করেছেন রাসূল ‎সা.-এর নিকটতম ৩৩ জন নারী সাহাবীর অনবদ্য জীবনী। ‎এ গ্রন্থটি তারই সাহাবিয়্যাত হাওলার রাসূল-এর অনূদিত ‎রূপ মহীয়সী নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন। ‎তথ্যসমৃদ্ধ ও সহজবোধ্য ভাষায় অনুবাদকৃত এ কিতাবটি ‎এদেশের মুসলমানদের জন্য ইসলামের পথে আরও ‎অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে এক অনবদ্য প্রেরণার উৎস হয়ে ‎‎থাকবে, ইনশাআল্লাহ।‎
‎লেখক পরিচিতি :‎
আল্লামা শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী হাফিযাহুল্লাহ আধুনিক ‎মুসলিম বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মিসরের কায়রো শহরে ‎‎১৯৬২ সালে তার জন্ম। শিক্ষাজীবনে তিনি হিলওয়ান ‎বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোস্যাল সার্ভিস বিষয়ে মাস্টার্স এবং ‎কায়রোর প্রিজার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে ইসলামিক ‎সাইন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর শিক্ষকদের ‎মধ্যে শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ ও ড. মুহাম্মাদ বিন ‎ইসমাইল আল-মুকাদ্দাম উল্লেখযোগ্য। ‎

[mohiosi nari sahabider alokito jiboni, mohiwosi nari sahabider alokito jiboni]

1 review for মহীয়সী নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন

  1. admin

    নাইমা ইসলাম
    5 November 2018
    এ মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূলে মহিমান্বিত আল্লাহ তা’আলার রয়েছে মহা পরিকল্পনা আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নারী ও পুরুষ হলো প্রধান সিপাহসালার ইসলামের সূচনা থেকে নারীজাতির ভুমিকা কোনো অংশে কম নয় । সুপ্রাচীনকাল কাল থেকেই নারীসমাজ ইসলাম প্রচার, প্রসার ও সভ্যতার বিকাশে রেখেছেন অনন্য অবদান । যার স্বর্ণোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন নারী সাহাবিগণ রাযিয়াল্লাহ তা’আলা আনহূন্না ।

    সৃষ্টির শুরু থেকেই নারীজাতি হিরন্ময়ী । বিপ্লবী অগ্রযাত্রার দর্দমনীয় সহযাত্রী । পুরুষের অলঙ্কার, দুঃসময়ের প্রশান্তিদায়ী, দুর্যোগের অনুপ্রেরণা, সমাজ সভ্যতার ধারা অক্ষুণ্ণ রক্ষাকারী কন্যা, জায়া ও জননী । রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
    ও সাহাবায়ে কেরামের অগ্রযাত্রা বেগবান ও স্বতঃস্ফূর্ততা রক্ষার অক্লান্ত রণসঙ্গী । নারী সাহাবিরা এক চেতনা, কর্মস্পৃহা রচনায় শাণীত অনুপ্রেরণা । ভোগের পুণ্য নয়; সৃষ্টির অপার মহিমা। স্বপ্ন, আশা, ভালোবাসা এবং উন্নত সভ্যতার এক অতুল সূতিকাগার।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবপূর্ব সময়ের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই ; জাহেলী যুগ___যা বিশেষভাবে আরববাসী এবং সাধারণভাবে পুরো জগতবাসী যাপন করছিল; কারণ, সেটা ছিল রাসুলদের বিরতি ও পূর্বের হিদায়াত বিস্মৃতির যুগ । হাদিসের ভাষ্যমতে, মহিমান্বিত আল্লাহ তা’আলা তাদের দিকে দৃষ্টি দিলেন এবং আরব ও অনারব সবার ওপর তিনি গোস্বা করলেন, তবে অবশিষ্ট কতক আহলে কিতাব ব্যতীত।” এ সময় নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ও সাধারণভাবে খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন ছিল । বিশেষত আরবসমাজে । আরবরা কন্যা সন্তানের জন্মকে অপছন্দ করত । তাদের অনেকে মেয়েকে জ্যান্ত দাফন করত; যেন মাটির নিচে তার মৃত্যু ঘটে । আবার অনেকে অসম্মান ও লাঞ্ছনার জীবন-যাপনে মেয়েকে বাধ্য করত ।

    ইসলাম এসে নারীর ওপর থেকে এসব যুলুম দূরীভূত করেছে, তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে পুরুষদের ন্যায় মনুষ্য অধিকার । ইসলাম বলেছে; নারী কেবলই জননী কিংবা ধাত্রী নন, গতিময় অভিসারী সমাজের সহযাত্রী । যুগ পরম্পরায় নারী সাহাবিদের কীর্তির সরব উপস্থিতি কর্মোদ্দীপনার সুরে ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে । তারা শুধু রমণীই নয়, ইতিহাসের জননী । ইতিহাসের হাজারও রওনকে নারীরা আছে নিদাগসম প্রখরতা, অগ্নিঝরা বিদ্রোহী কাব্য গতির ঊর্মিমালা । নারী দুর্গম গিরিখাদে পুরুষের উদ্দীপনা, দরিদ্রক্লিষ্ট গৃহকর্তার সান্ত্বনার আসমানসম শামিয়ানা ।

    উম্মাহাতুল মুমিনিন ও নারী সাহাবিগণের সুন্দর গুণাবলি ও মর্যাদা সম্পর্কে গভীর চিন্তা করলে অনুমিত হয় যে, তারা ইলিম, ন্যায়পরায়ণতা, জিহাদ ও অন্যান্য সব কল্যাণকর কাজে ছিলেন সর্বাধিক অগ্রগামী । ফলে তারা তাদের পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন আর পরবর্তীদের হারিয়ে দিয়েছেন, অভীষ্ট লক্ষ্যে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছিলেন । তারাই ছিলেন আমাদের পর্যন্ত ইসলাম পৌঁছানোর এবং সব ধরনের কল্যাণ ও হেদায়াতের মাধ্যম । তাদের মাধ্যমেই আমরা সৌভাগ্য ও নাজাত লাভ করেছি । কেয়ামত পর্যন্ত উম্মত তাদের ইলম, তাকওয়া, ন্যায়পরায়ণতা ও জিহাদের অবশিষ্ট কল্যাণপ্রাপ্ত হবেন ।

    ইসলামের প্রথম যুগের এই সুযোগ্য নারীরা তাদের সন্তানদের এমন যোগ্য করে গড়ে তোলেন যে, বিশ্ববাসী অবাক-বিস্ময়ে তাদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকিয়ে দেখে । তারা ইসলামকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন । খিলাফতের প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা, সুষম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন । ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এমন সব উদাহরণ পেশ করেন, যা আজও মানুষকে বিস্ময়ে অভিভূত করে ।

    বিশ্বনন্দিত আরব সাহিত্যিক শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী আবূ আম্মার সংকলিত___صَحَابِيَّاتٌ حَوْلَ الْرَّسُوْلِ ﷺ এর অনুবাদ মহীয়সী নারী সাহাবিদের আলোকিত জীবন নামক গ্রন্থে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটতম তেত্রিশ জন নারী সাহাবির ঈমানদীপ্ত জীবনী উঠে এসেছে । আশা করি, তাদের জীবনচরিত শুনে অন্তর প্রশান্ত হবে, ইলমের মজলিস ও পাঠশালয় সুসজ্জিত হবে । কেনই-বা হবে না ; তারা তো ছিলেন আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বান্দা, সর্বোত্তম মানুষ।

    সুলেখক, গবেষক ও সময়ের সেরা অনুবাদক Kazi Abul Kalam Shiddique সাহেব অনূদিত অনুবাদক ও সম্পাদক Muhammad Adam Ali সাহেবের সম্পাদিত “মহীয়সী নারী সাহাবিদের আলোকিত জীবন” গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সময়ের সেরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান Maktabatul Furqan

Add a review

Your email address will not be published. Required fields are marked *